জন্ম ও মৃত্যু
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৮ (১০ রমজান ১৩১৫ হিজরী)
তিনি ইন্তেকাল করেন ২৪ মে ১৯৮২ (আল-বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়)
শিক্ষা ও অধ্যাপনা
কান্ধলভী নিজ এলাকায় ধর্মীয় পরিবেশে বড় হন এবং শিশুকাল থেকেই ইসলামি শিক্ষায় অবগাহন করেন।
পরে তিনি মাজাহির উলূম (Mazahir Uloom), শাহারানপুর মাদ্রাসায় গমন করেন, যা দেওবন্দি পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পড়ালেখা শেষ করার পর (প্রায় ১৯১৭ সালে) সেখানেই মাওলানাজী হিসেবে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন।
ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গা ও আন্দোলন
তিনি দেওবন্দি (Deobandi) ধারার সক্রিয় আলেম ছিলেন।
সাথে সাথে তিনি ছিলেন তাবলিগ জামাত-এর একজন আইডিয়োলজিস্ট (চিন্তাবিদ) — তার লেখালেখি এবং দাওয়াতি কাজ এই আন্দোলনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তার জীবনেও সুফি (তাসাউফ) দৃষ্টিভঙ্গা ছিল — তিনি শুধু হাদীস অধ্যাপকই নন, আধ্যাত্মিক দিকেও গভীরতা রাখতেন।
লেখালিখি ও বড় কাজ
তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ আছে, বিশেষত “Fada’il (ফজাইল) সিরিজ”, যা তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য।
তার বড় ভাষ্য/গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
Awjaz al-Masalik ila Muwatta Malik (১৮-ভলিউম)
Al-Kawakib al-Durri — তিনি তিরমিজী (Sunan al-Tirmidhi) নিয়ে লেকচার এবং শরাহ করেছিলেন।
Lami al-Darari — এটি তাদের (Gangohi-এর) বুকহারি লেকচারের শরাহ।
Al-Abwab wa al-Tarajim — এখানে তিনি সাহিহ বুখারি-র অধ্যায়শিরোনাম (chapter headings) ও хадীসগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করেছেন এবং প্রায় ৭০টি নিয়ম বা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।
তার আত্মজীবনী “Aap Beati” সাত ভলিউমে রচিত, যেখানে তাঁর শৈশব, শিক্ষা, আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, আধ্যাত্মিক যাত্রা ও তার জীবনের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত রয়েছে।
মোটামুটি ১০৩টি গ্রন্থ তিনি লিখেছেন — যেগুলোর মধ্যে ৫৭টি আরবি এবং ৪৬টি উর্দুতে।
তিনি তার গ্রন্থগুলি কপিরাইট করতেন না — অর্থাৎ, তিনি লেখালেখি থেকে লাভজনক স্বার্থ কমে দলে দাওয়াতি কাজকে প্রাধান্য দিতেন।
শিক্ষার্থীর এবং অনুপ্রভাব
তিনি অনেক শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ বিশিষ্ট আলেম গড়েছিলেন। তাঁর شاگردদের মধ্যে ছিল: মাহমুদ হাসান গানগোহি, ইউসুফ লুধিয়ানভী, ইউসুফ মোটালা ইত্যাদি।
এমনকি তার চিন্তাভাবনা ও লেখার মাধ্যম দিয়ে বহু তরুণ দাওয়াতী ছাত্র ও আলেম তার ভাবনায় প্রভাবিত হয়েছেন এবং তাবলিগ জামাতের কার্যকলাপে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।
আধ্যাত্মিকতা ও দাওয়াতি কাজ
যাকারিয়া কান্ধলভীর দাওয়াতি কাজ ছিল গভীর এবং প্রভাবশালী — তাঁর বইগুলোর বেশ কিছু দিন-দিন তাবলিগ জামাতে মূল পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তাঁর ফজাইল-সিরিজ (যেমন: ফজায়েলে আমাল) সাধারণ মুসলমানদের জন্য নেক আমল উৎসাহিত করতে এবং ইসলামি জীবনযাপনে অনুশাসন দিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিনি নেক কাজ, দোয়াপ্রার্থনা, নামাজ, রোজা এবং অন্যান্য সুন্নাহ আমলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতেন এবং মানুষের নৈতিকতা, আমল বৃদ্ধিতে কাজ করতেন।
উত্তরাধিকার ও মর্যাদা
মরার পরে, তাঁর কবর আল-বাকী (মদিনায়) রয়েছে যা ইসলামী ঐতিহ্যগতভাবে বড় মর্যাদার জায়গা।
তার গ্রন্থ আজও ব্যাপকভাবে পড়া হয় এবং মুসলিম দাওয়াত-সমাজে তার চিন্তাভাবনা ও আমল-উপদেশ বড় প্রভাব রাখে।